প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পরিবহন নেতাকে হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রেজাউল করিম রাজা নামে এক পরিবহন নেতাকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার রাজা মিয়া স্ত্রী মোসাঃ আলো আক্তার (৩০), কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামের শান্তি রঞ্জন শীলের ছেলে তাপস চন্দ্র শীল (২৫), এবং চান্দিনা উপজেলার বশিকপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া জয়নাল মেম্বার বাড়ীর আঃ সামাদ প্রকাশ্যে সামাদ সরকারের ছেলে মোঃ রাসেদ (২৮)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী এপিপি এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, রায় ঘোষণাকালে আসামি রাসেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর ২ আসামি মোসাঃ আলো আক্তার ও তাপস চন্দ্র শীল পলাতক রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার রেজাউল করিম রাজা মিয়া মুন্সীগঞ্জের উপজেলার পুরাতন চর চাষী গ্রামের মৃত ছোয়াব আলী বেপারী পুত্র। তিনি গজারিয়া পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দি গ্রামে শ্বশুর বাড়ির পাশে বসবাস করতেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১২ জুন পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রী আলো আক্তার, তাপস চন্দ্র শীল ও মোঃ রাসেদ মিলে পরিবহন নেতা রাজা মিয়াকে হত্যা করে। ওই দিন রাতে দাউদকান্দি উপজেলার সতানন্দি গ্রামে আবদুল আউয়াল কমিশনারের বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর রাজা মিয়ার ভাই খাজা মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে দাউদকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাজা মিয়ার স্ত্রী আলো আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তাপস এবং রাশেদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে জানায়। পরে পুলিশ তিন আসামিকে আটক করে এবং তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৫ সালে ২৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আদালত তিন আসামীর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

এদিকে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এপিপি নজরুল বলেন- এর ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অপরদিকে, আসামি পক্ষের মাসুদ সালাউদ্দিন বলেন, এ রায়ে আসামি পক্ষ ক্ষুদ্ধ। রায়ের কপি হাতে পেয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

প্রিন্ট করুন