প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে অনিবন্ধিত নাঙ্গলকোট ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতাল

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি :

কুমিল্লা নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে অনিবন্ধিত  ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতাল।

নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৃতীয়বার সিজার করতে গিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে এবং টাকার বিনিময়ে সেটি রফাদফা হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর রোববার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পরিদর্শন টীম পাঠিয়ে হসপিটালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

কিন্তু হসপিটাল কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ম্যানেজার রায়হান সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রধান করেন।

সোহেল নামে হসপিটালের এক শেয়ার হোল্ডার বলেন, আমাদেরকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডাঃ লতিফা আক্তার লতা হসপিটালের ভর্তি বন্ধ রেখে আউটডোর চালু রাখতে বলেছেন এবং বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনকে না জানানোর অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নাগরিপাড়া গ্রামের শাহজালালের স্ত্রী ফাতেমা আক্তারের ডেলিভারির জন্য ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

পরে তৃতীয় সিজারের নিয়ম না থাকলেও ওই হাসপাতালে শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাক্তার মাহমুদা আক্তার মুক্তা ও ডাক্তার আবু নাসের নেতৃত্বে প্রসতির সিজার (অপারেশন) শুরু করেন।

এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসৃতির অবস্থা গুরুতর হলে নাঙ্গলকোটে আইসিইউ ব্যবস্থা না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের অপারেশন চার্জ আট হাজার টাকা রেখে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রেফার করেন।

সেখানে নেওয়ার পথেই রোগী মারা যান। পরে রোগীর স্বজনরা ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে স্থানীয় কয়েক কথিত সাংবাদিকের উপস্থিতিতে মারা যাওয়া প্রসূতির স্বামীর স্বাক্ষর নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি রফাদফা করতে বাধ্য করেন।

গতকাল লাঙ্গলকোট পৌরসভার ২ নং প্যানেল মেয়র নাঙ্গলকোট ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক জহিরুল্লাহ সুমন ওমরাহ হজ্ব শেষে দেশে ফিরে পূনরায় আজ রোববার থেকে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্র জানান।

এবিষয়ে রোববার (১৬ এপ্রিল) ০১৮২৫৪০৩০৫০ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে এক ভদ্র মহিলা রিসিপশনের দায়িত্বে আছেন স্বীকার করে বলেন, না হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এই বিষয়ে কোন কথা থাকলে সুমন স্যারের সাথে কথা বলুন।

পরিচালক জহিরুল্লাহ সুমনের কাছে হাসপাতাল বন্ধ ও পরবর্তী চালু করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু জানিনা মাত্র গতকাল ওমরাহ করে বাড়ি আসছি।

প্রিন্ট করুন