প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

তিতাসে যুবলীগ নেতা হত্যা : এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সহিদুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম মাস্টার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার ৩ আমলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবির) বিভাগের ওসি রাজেস বড়ুয়া।

গত ৯ মে হত্যাকারীদের সহায়তার জন্য সাদ্দাম মাস্টারকে (৩৩) তিতাসের গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তিনি তিতাস উপজেলার বড় গাজীপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ও স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক।

ডিবি সূত্র জানায়, সাদ্দাম মাস্টার ঘাতকদের পূর্বপরিচিত। হত্যাকারীদের পালিয়ে যেতে তিনি সহায়তা করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন স্থানে হত্যাকারীদের সঙ্গে আত্মগোপনে ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারীদের কুমিল্লার বাইরে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন সাদ্দাম মাস্টার।

এর আগে গত ১০ মে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামাল হোসেনকে তিন সন্ত্রাসী বোরকা পরে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ওই কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া বোরকা পরা তিন সন্ত্রাসীর নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু, কালা মনির ও আরিফ। শুটার দেলুকে গত ৯ মে রাজধানীর যাত্রবাড়ী এলাকা থেকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দুইটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।

ডিবির ওসি রাজেস বড়ুয়া বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালত সাদ্দাম মাস্টারের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। আজ সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তাকে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় এ পর্যন্ত বোরকা পরা শুটার দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচদিনের রিমান্ডে দেলোয়ার হোসেন দেলুকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য আমরা দ্রুতই উদঘাটন করেছি। মামলার এজাহার নামীয় ৫ আসামি বিদেশে পলাতক। তাদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা একটি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

গত ৩০ এপ্রিল রাত সোয়া আটটার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পশ্চিম বাজারে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে বোরকা পরা তিন দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ২ মে রাত সাড়ে ১১টায় দাউদকান্দি থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনের নামে নিহতের স্ত্রী পপি আক্তার মামলা করেন। নিহত জামাল হোসেন তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

প্রিন্ট করুন