প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘শব্দ দূষণের মাত্রা কমাতে সকলকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে’ 

‘সুস্থ পরিবেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৪ পালিত হয়েছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এবং  জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ, র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘শব্দ দূষণ রোধে সমাজে সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই শব্দ দূষণের মাত্রা কমাতে সকলকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।’

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় কুমিল্লা নগরীর নগর উদ্যানের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের সামনে থেকে র‍্যালী শুরু হয়ে বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে র‍্যালীর সমাপ্তি হয়। এর আগে দিনটি উপলক্ষে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফাহমিদা মোস্তফার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.কামরান হোসেন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল আলম।  কুরআন তিলওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। পরে, শব্দ দূষণ রোধ ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বক্তারা।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে তিন ধরণের দূষণ বেশী হয়। সেগুলো হলো, পানি, বায়ু ও শব্দ। শব্দ দূষণের কারণে হৃদরোগসহ আরো অনেক রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। এতে শিশুর মেধা বিকাশেও বাধা দেয়। তাই আমারা শব্দ দূষণ রোধে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে কুমিল্লা নগরীতে আমরা শব্দের মাত্রা জরিপ করে দেখেছি। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে ৮২.১ ডেসিবেল, পুলিশ লাইনে ৭৯.৩ ডেসিবেল, শাসনগাছা ৯২.২ ডেসিবেল, টমসমব্রিজে ৮০.৮ ডেসিবেল, চকবাজারে ৮৬.৬ ডেসিবেল, জাঙ্গালিয়ায় ৭৮.৭ ডেসিবেল। যা স্বাভাবিক শ্রবণমাত্রা চাইতে অনেক বেশী। আমাদের দেহের স্বাভাবিক শ্রবণমাত্রা ৪৫-৬০ ডেসিবেল। তাই শব্দ দূষণের মাত্রা কমাতে আমাদের পাশাপাশি সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।’

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘শব্দ দুষণ মানব দেহে মারত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শব্দ মানব দেহের কান দিয়ে প্রবেশ করে মস্তিস্কে প্রবেশ করে। ফলে মানুষ বিশেষ করে শিশুরা বধির হয়ে পড়ে। যানবাহনের হর্ণ শব্দ দূষণের একটি অন্যতম মাধ্যম। তাই বিআরটিএ’র উচিৎ একটা গাড়ি যখন লাইসেন্স নিতে আসবে তখন সেটা কোন হর্ণ ব্যবহার করছে সেটা দেখে লাইসেন্স দেওয়া। এছাড়াও শব্দদূষণের ফলে মানুষের বহুমাত্রিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিসমূহ হলো- মাথাব্যাথা, অনিদ্রা, কানে কম শোনা এবং আংশিক বা পুরোপুরি বধিরতা, মানসিক চাপ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, ক্ষুধামন্দা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্ম হওয়া। জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর শব্দের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সকলকে সচেতন হতে হবে।’

বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক রুমানা রুমির উপস্থাপনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক অভিবাদন সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুমসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

প্রিন্ট করুন