প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মুরাদনগর থানা পুলিশ এক অভিনব অভিযানে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই চক্রের মূল হোতা মোঃ নাজমুল হাসান লিটনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে। গত ৫ জুন রাতে মুরাদনগর বাজারের আল্লাহ চত্ত্বর সিএনজি স্টেশনে এক পিকআপ গাড়ি থেকে ছিনতাই করা হয় ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা। ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে ১২ জুন লিটনকে নিমাইকান্দি গ্রামে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন রাতে সঞ্জিত চন্দ্র সরকার পিকআপ গাড়ি করে মাছ নিয়ে যাওয়ার সময় মুরাদনগর বাজারের আল্লাহ চত্ত্বর সিএনজি স্টেশনে আসার পর অজ্ঞাতনামা একজন মোটরসাইকেল যোগে এসে মাছের গাড়িকে সিগন্যাল দিয়ে গাড়িতে অবৈধ মাল আছে বলে জিজ্ঞাসা করে এবং নিজেকে আইনের লোক বলে পরিচয় দেয়। পিকআপটি দাঁড় করানোর সাথে সাথে অজ্ঞাতনামা লোক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেকার নিয়ে পিকআপের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং পিকআপ চেক করতে শুরু করে। এমন সময় অন্য একজন অজ্ঞাতনামা লোক পিকআপ গাড়ির ড্রাইভার মোঃ সোহেল এর প্যান্টের বাম পকেট থেকে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিলে বিষয়টি সন্দেহ হলে সাথে সাথে আসামীদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার যোগে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সঞ্জিত চন্দ্র সরকার থানায় এসে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

উক্ত ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম লুষ্ঠিত টাকা ও ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযান পরিচালনার সময় তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় গত ১২ জুন নিমাইকান্দি গ্রামের মাসুদ এর বিল্ডিংয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ দেখতে পেয়ে দৌঁড়ে পালানোর সময় আসামী মোঃ নাজমুল হাসান

লিটনকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপর এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির হাতে থাকা ১৫ পিস ইয়াবা ফেলে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামী হলো- কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন ১৩নং মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর মধ্যপাড়া এলাকার ওমর আলীর ছেলে মোঃ নাজমুল হাসান লিটন (২৬)।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে তার অপর এক সহযোগীর সহায়তায় উক্ত ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো স্থান হতে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন ও নম্বরবিহীন একটি কালো রংয়ের ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল এবং লুণ্ঠিত ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য ও ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ী উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উক্ত ঘটনায় পৃথকভাবে মুরাদনগর থানার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন