প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লা সদরে অনুমোদন বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লা সদরে অনুমোদন বিহীন ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মোঃ সফিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জুলাই ২৪, কুমিল্লার সাবেক এমপি পলাতক বাহারের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে ছাত্র জনতার উপর সশস্ত্র হামলায় জড়িত শফিকুল গংরা, আমেরিকা প্রবাসী আবুল বাসার এর সীমানা দেওয়াল ভেঙে ফেলে। বাশারের জায়গা দখল করে নীলাচল টাওয়ার-১ বহুতল ভবন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনুমোদনহীন রাতদিন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কুয়েত মিশনের কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মোঃ নাদিম হুদা ও আমেরিকার প্রবাসী মোহাম্মদ আবুল বাসার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, বিল্ডিং কোড অমান্য করে বেআইনী ভাবে বহুতল ভবন স্থাপনার চলমান কাৰ্যক্ৰম বন্ধ করার প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
জানা যায়, আমেরিকার প্রবাসী মোহাম্মদ আবুল বাসার ২০০২ সালে সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার আট শতক ভূমি ক্রয় করেন এবং সীমানার দেওয়াল নির্মাণ করেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এমপি বাহারের ক্ষমতার দাপটে শফিকুর রহমান, মামুনুল হক, মোখলেছুর রহমান, ওমর ফারুক ও মমিনুল হক গংরা আবুল বাসারের সীমানার দেওয়াল ভেঙে দখলের চেষ্টা করে। তার উত্তরাংশে নির্মাণাধীন নীলাচল টাওয়ার-১ নামীয় বহুতল ভবন নির্মাণের সময় টাওয়ারের মালিক পক্ষ আবুল বাসারদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
অনুমোদন হীন বহুতল ভবন নির্মাণে আইন অনুযায়ী সেটব্যাক না রাখায় গত ২৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন আবুল বাসার গংরা। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২৫ অক্টোবর আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) সরজমিনে তদন্ত করেছেন এবং উক্ত ভবনটির প্লান অনুমোদন না থাকার কারনে নীলাচল টাওয়ার-১ এর নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার মৌখিক নির্দেশ প্রদান করেন। কয়েকদিন বন্ধ রেখে এখন আবার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কাগজপত্র মতে জানা যায়, আবুল বাসার ২০০২ সালে ৮ শতক জায়গা খরিদ করিয়া উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে নিজ নামে খারিজ, খতিয়ান, সৃজন করতঃ নিয়োমিত খাজনা পরিশোধ করিয়া আসতেছেন। আবুল বাসার বিদেশ থাকাকালীন সময়ে উক্ত ভূমির বিক্রেতা তাহার অবিক্রিত ভূমিতে ভূমির মালিক শফিকুর রহমান, মামুনুল হক, মোখলেছুর রহমান, ওমর ফারুক ও মমিনুল হক গং সম্মিলিতভাবে নীলাচল টাওয়ার নামীয় প্রায় ৪০০ বর্গ মিটার এর উপর ১০ তলা বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যা আবুল বাসার এর বাউন্ডারি ওয়াল থেকে যথাক্রমে ১’-৮” থেকে ০’-১০” দূরত্ব ও চলাচলের রাস্তার পার্শ্বে ০’-১০” থেকে ০’-৩” দূরত্বে তাদের বহুতল ভবনের স্থাপনার মূল কলাম স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ গ্যাজেট ২০০৮ এর ৫ম অধ্যায়ের ৪৬ দুইয়ের ২নং সারণীর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও বেআইনী।
সরজমিন অনুসন্ধান জানা যায়, নীলাচল টাওয়ার-১ ভবনটির সম্মুখ ভাগ উত্তর দিকে (পুরাতন ঢাকা চট্টগ্রাম সড়ক) এবং পশ্চাৎ দিক দক্ষিণ দিকে আবুল বাসারের বাউন্ডারি ওয়াল, যা শফিক গংরা জোরপূর্বক ভূমি দখলের অপচেষ্টা করে ফলে আবুল বাসার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য বর্তমান কুয়েত মিশনের কর্মরত মোঃ নাদিম হুদা ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন।
শহরের কৃষ্ণনগর এলাকায় প্রবাসী আবুল বাশারের ক্রয় করা জমিতে জবর দখলের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে সফিকুলদের (নীলাচল টাওয়ার-১) এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিল্ডিং কোড অমান্য করে বেআইনীভাবে বহুতল ভবন স্থাপন করছে নীলাচল-১। প্রবাসী আবুল বাশার জেলা প্রশাসন, বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর সরেজমিনে তদন্ত করা হয় এবং ভবনটির প্ল্যান অনুমোদন না থাকার কারণে নীলাচল টাওয়ার-১ এর সকল স্থাপনার কার্যক্রম স্থগিত রাখার মৌখিক নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে নীলাচল টাওয়ার-১ ইমারত আইন না মেনে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করায় প্রতিবেশী প্রবাসীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এর আগে কয়েকদিন স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ রাখার পর পুনরায় স্থাপনার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রিন্ট করুন