প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পরিবারের আহাজারি : প্রবাসী ছেলের ফেরত পেতে দফতরে দৌড়ঝাঁপ

গোলাম ছামদানী রাসেল :

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার যাইটশালা গ্রামের ছেলে তানভির আখন্দ রাফি (২২) প্রবাসে চাকরি করে পরিবারের দুঃখ কষ্ট দূর করতে গিয়ে আজ নিজেই কষ্টের জীবন পার করছেন। দুবাই প্রবাসী রাফি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাংলাদেশী পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে থাইল্যান্ডে ভ্রমণে গিয়ে সাইবার সন্ত্রাসীর হাতে জিম্মি হয়ে মিয়ানমারের বর্ডারের নির্জন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজের পর থেকে ১ মাস ৮ দিন হলো রাফির কোন খোঁজ নেই। এদিকে রাফির বাবা রেহান উদ্দিন আখন্দ ও মা ইয়াছমিন আক্তার পাগলপ্রায় হয়ে বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ করছেন। কখনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কখনও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আবার কখনও জনশক্তি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু এখনো কোন প্রতিকার বা খোঁজ পাননি।
গত ৯ই ডিসেম্বর রবিবার তানভির আখন্দ রাফির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাফি দুবাইতে একটি প্রকল্পে চাকরি করতেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে বাংলাদেশী বন্ধু রোমানের পরামর্শে থাইল্যান্ডে ভ্রমণে যান। কিন্তু রোমান ও ইফতেখারুল আলম রনি তাদের মিয়ানমারের সাইবার সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন।
সাইবার সন্ত্রাসীরা রাফিসহ ছয়জনকে নির্যাতন করে এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাক্ষর নিতে চায়। সাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এসময় রাফির বন্ধু জুনায়েদ পালিয়ে এসে জানান, রাফি মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন।
রাফির বাবা-মা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের ছেলেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। উদ্ধারকৃত জুনায়েদ জানান, মিয়ানমারে মোট ১৭ জন বাংলাদেশী জিম্মি আছেন।
এভাবে রাফির পরিবার ও স্বজনরা তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পেতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রিন্ট করুন