প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

কাঠালিয়ায় খেজুরের লালি ও নলেনের পাটালি গুড়ের ঐতিহ্য

এস হোসেন, বক্সনগ :

কাঠালিয়া ব্লক এলাকার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামীন এলাকাতে চিরাচরিত ঐতিহ্য রক্ষার্থে এখনও খেজুর গাছ কেটে কতিপয় গাছিয়াল খেজুরের লালি বা নলেনের পাটালি গুড় তৈরি করে বাজারজাত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বিশেষত কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকায় খেজুরের লালি কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে।
শীতের প্রকট বাড়ার সাথে সাথে খেজুরের রস পরিষ্কার হয়ে লালি এবং নলেনের গুড় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। ব্লক এলাকার উত্তর মহেশপুর গ্রামে সীমান্তপাড়ায় বসবাসকারী পুরানো ও দক্ষ গাছিয়াল নিরঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের পাশে আইবিবি রোডের ধারে দশটি খেজুর গাছ কেটে শীতের মরশুমে বেশ কিছু টাকা উপার্জন করেন।
গাছ কাটার সময় একান্ত সাক্ষাতে নিরঞ্জন সরকার জানালেন, “জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। লালি তৈরি করতে লাকড়ির দরকার হয়, কিন্তু লাকড়ির এখন যথেষ্ট সংকট এবং দামও বেশি। খেজুর গাছ কাটার ছেনি দা এর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকা, এছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বেশি। কাজেই এবার লালির দাম বিক্রি করা হবে ৪০০ টাকা লিটার। যদিও গত বছর ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু এই বছর ৪০০ টাকায় অবশ্যই বিক্রি করতে হবে।”
একই কথা জানালেন লেদ্রা বাড়ি গ্রামের ফরমোজ মিয়া এবং মাতাম বাড়ির ইসমাইল মিয়া। তারাও বেশ কিছু খেজুর গাছ কেটে মানুষের চাহিদার পাশাপাশি নিজেদের কিছু অর্থ উপার্জন করেন। পৌষের মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে পিঠে পুলি খাওয়া হয়। এই পিঠে পুলি খাওয়া চিরাচরিত অভ্যাস। মকর সংক্রান্তি যতই এগিয়ে আসে, বাজারে বিশেষ করে খেজুরের লালির দাম বেড়ে যায়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাড়ি বাড়ি এসে লালি ক্রয় করে নিয়ে চলে যায়।
সম্ভবত চলতি মরশুমে খেজুর গাছ কাটার গাছিয়াল অনেক কমে গেছে, কারণ নতুন করে কোন গাছিয়াল এগিয়ে আসছেনা খেজুর গাছ কাটার জন্য। সমস্যা একটাই, তাই আগামী দিনে খেজুরের লালি পাওয়াটাই দুষ্কর হবে।

প্রিন্ট করুন