প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

স্পেন প্রবাসীর মিথ্যা মামলায় কুমিল্লার আইনজীবী হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লা নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এক আইনজীবি ও তার পরিবারকে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্পেন প্রবাসী শাহাদাত হোসেন ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে।
এড. তৌহিদ বিন আবসার বলেন, “আমার পাশর্^বর্তী ভূমিতে স্পেন প্রবাসী শাহাদাত হোসেন রনি আমার বড় ভাই সাইফুল বিন আফসারের কাছ থেকে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। ওই সময় সে ও তাঁর বাবা মকবুল হোসেন ভবন ইমারতনির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের পাশে কোন আবশ্যক উন্মুক্ত স্থান না রেখে কোনরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখে ভবন নির্মাণ শুরু করে। এই বিষয়গুলো সমাধানের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করা হলে মকবুল হোসেন নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নানা রকম হুমকি-ধমকি প্রদান করে।”
পরবর্তীতে চলতি বছরের ৮ মে সাইফুল বিন আফসার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে (কুসিক) এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৯ জুলাই নির্মাণাধীন ভবন থেকে মালামাল পড়ে তৌহিদ বিন আবসারের বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে জানালে মকবুল হোসেন উল্টো তাদের নামে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হাজতে পাঠানোর হুমকি প্রদান করেন। এরপর এ বিষয়ে তৌহিদ বিন আবসার কোতয়ালী মডেল থানা ও কুসিকে লিখিত অভিযোগ করেন।
কুসিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে ১৫ জুলাই শাহাদাত হোসেন রণির ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য লিখিত নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু তারা কুসিকের নোটিশ অবজ্ঞা করে কাজ চলমান রাখে। ফলে এ বিষয়ে পুনরায় অভিযোগ করলে কুসিক কর্তৃপক্ষ ২০ আগস্ট দ্বিতীয় নোটিশ প্রদান করে এবং সরেজমিনে ঘটনাস্থলে এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। মকবুল হোসেনকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়ে যায়।
এর মধ্যে মকবুল হোসেন সন্ত্রাসী ভাড়া করে তৌহিদ বিন আবসারের বড় ভাইয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে মকবুল হোসেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দুই নোটিশকে পাত্তা না দিয়ে নির্মাণ কাজ আবার শুরু করলে তারা দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত ৫ সেপ্টেম্বর শাহাদাত হোসেন রনি ও তার পিতাকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদাত হোসেন রনি ও তার পিতা মকবুল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করে। মামলাটি তদন্ত চলাকালীন সময়ে ওসি কোতয়ালী তৌহিদ বিন আবসারের বড় ভাই সাইফুল বিন আফসারকে গ্রেফতার করেন। এতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আদালত অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৌহিদ বিন আবসার।
তিনি আরও বলেন, “শাহাদাত হোসেন রনি স্পেন প্রবাসী হওয়ার সুবিধা নিয়ে নানাভাবে আমাদের হয়রানি করছে। তারা সম্প্রতি দুয়েকটি অনলাইনে আমাদেরকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে ভুল তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে সামাজিকভাবে আমাদের সম্মানহানি করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছি। আমরা আশা করছি প্রশাসন এ বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এ বিষয়ে জানতে স্পেন প্রবাসী শাহাদাত হোসেন রনির মুঠোফোনে একাধিক চেষ্টা করেও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রিন্ট করুন