প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

পদুয়ার বাজারে মাছের মেলা : সপ্তাহে দু’দিন কোটি টাকার বেচাকেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে সপ্তাহে দুদিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য সড়কের ওপর বসা এই অস্থায়ী বাজারে প্রতি হাটে বেচাবিক্রি হয় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার মাছ। কম দামে দেশি ও সামুদ্রিক মাছ কিনতে প্রতি হাটে থাকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে লাকসাম সড়কের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে এই বাজার বসে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার। বিকেল থেকে শুরু হওয়া বাজার শেষ হয় রাত ৯/১০টার দিকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ আসে এখানে। সরবরাহ বেশি ও এক হাটে সব রকমের মাছ পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাপ্তাহিক বাজার করে নেন ক্রেতারা। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের হাকডাকে সরগরম থাকে বাজারটি।

ব্যবসায়ীদের মতে, এখানে প্রতি হাটে ছোট বড় প্রায় তিনশ দোকান বসে। দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয়, যার মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা। সপ্তাহে দুদিন করে মাসে আট থেকে দশটি বাজার বসে পদুয়ায়।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসে দেশি মাছ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রুই কাতল, শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, শোল, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, বোয়াল, আইড়, বাইন, গজার প্রভৃতি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, মৃগেল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড ও কমনকার্প মাছ। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা আনেন ইলিশ। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা আনেন সামুদ্রিক মাছ, যার মধ্যে রয়েছে চাপিলা, লইট্যা, সুরমা, কোরাল, টুনা, রূপচাঁদা, বাটা, বাইলাসহ অন্যান্য মাছ। সামুদ্রিক কাঁকড়াও বিক্রি হয় এখানে।

বাজারে মাছ কাটেন শাহ আলম নামে এক শ্রমিক জানান, প্রতি হাটে এখানে মাছের মেলা বসে, এ বাজার প্রতিহাটে আমরা ১৫ মণ এর বেশি মাছ কাটি, মাছ বেশি আসে, বিক্রিও হয় বেশি আর আমাদের আয় রোজগার ভালো হয়। প্রতি কেজি মাছ কাটতে প্রকারভেদে ১০ থেকে ৪০ টাকা করে নেই। ইজারাদার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রতি সাপ্তাহে এ বাজারে প্রায় দুশতাধিক মাছের দোকান বসে। কোনো আড়তদার নেই, সামান্য খাজনা নেয়া হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই স্বাচ্ছন্দে এখানে বেচাকেনা করতে পারেন।

সিরাজ মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, এখানে সরাসরি মাছ এনে বিক্রি করি, আড়তদার নেই। যা লাভ হয়, নিজেরই থাকে। অস্থায়ী বাজার হওয়ায় সীমিত লাভে মাছ বিক্রি করে চলে যাই। সপ্তাহের বাজারে ভালোই আয় হয়।

ক্রেতারা জানান, পদুয়ার বাজারে সব ধরনের মাছ পাওয়া যায় এবং দামও কিছুটা কম থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো হওয়ায় সাপ্তাহিক বাজারের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

প্রিন্ট করুন