প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতিসংঘের প্রতিবেদন শেখ হাসিনার রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক

অনলাইন ডেস্ক :

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালানো শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতিতে আগেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছেন। এবার তার রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদন।

#জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও নৃশংসতার চিত্র

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হাসিনার সরকার ও তার দলের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থান চলাকালে ১৪ শতাধিক মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও আওয়ামী লীগ নৃশংসতা চালিয়েছে। খোদ শেখ হাসিনাই এই হত্যাযজ্ঞে সমন্বয়ের ভূমিকায় ছিলেন।

#আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়ে খবর প্রচার করেছে বিবিসি, এএফপি, সিএনএন, রয়টার্স, আল জাজিরা, টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যম। বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ‘হাসিনার সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে’- এমন তথ্য বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

#রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দিনের লুটপাট, গুম-খুন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনাই তার নিজের ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির কবর রচনা করেছিলেন। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন শেখ হাসিনার ‘রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক’ ঠুকে দিয়েছে।

#আয়নাঘর ও বন্দিশালার ভয়াবহতা

জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের সময়টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এবং বহু বছর বন্দি ছিলেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীকে নিয়ে হাসিনা সরকারের গোপন টর্চার সেল কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় বন্দিরা তাদের লোমহর্ষক দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।

#মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জবাবদিহিতা

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় অভিযুক্তরা যেন দায়মুক্তি না পায়। অপরাধীরা বিদেশে থাকলেও ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

#বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রচলিত প্রতিবেদন নয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থার পর্যবেক্ষণ, যা হাসিনার সরকারের নৃশংসতার বৈশ্বিক দলিল হয়ে থাকবে।

প্রিন্ট করুন