ফেসবুক কর্ণার :
প্রতি বৃহস্পতিবার ইনি ফ্রীতে যাত্রী টানেন।
দুইবেলা রিক্সা চালান। দিনের শুরুতে মালিকের জমার জন্য একশত টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়। তারপর সারাদিন ফ্রীতে যাত্রীসেবা।
তখন রাত প্রায় দশটা। খিলগাঁও রেলগেট থেকে বাসায় ফেরার রিকসা খুঁজতে গেলে একজন চালক আমাকে দেখিয়ে দিলো ওকে।
“ওর রিকসায় চলে যান। কোন ভাড়া লাগবে না।”
– আমি বিনা ভাড়ায় যাবো কেনো?
– যান ভাই, সারাদিন বিনা ভাড়ায় চালাইছে। এখন বাসায় যাবে, যাত্রীর জন্য বসে আছে। আপনি গেলে অয় তাড়াতাড়ি বাসায় যাইতে পারে।
বিস্ময়ে ঘোর লাগে। কাছে যেতেই বললো, উঠেন।
রিকসায় রেলগেট থেকে নন্দীপাড়া বাজার পর্যন্ত আসতে অনেক চেষ্টা করে শুধু মালিকের জমা উঠানোর তথ্যটাই জানতে পেরেছি। শরিফ ভাইয়ের হোটেলের সামনে নেমে এই ছবিটা তুলতে গিয়ে স্বতস্ফুর্ত সম্মতি পাইনি ওর।
এফবিতে দেয়ার মতো তথ্য পাইনি, নামটা বলতেও অনিহা ছিলো ওর। ছবি নিয়ে বললাম, ভাই তোমার ছবিটা দিয়ে কিছু লিখবো ফেসবুকে ? কিছু না বলেই মাথা নুইয়ে রিকসা টেনে চলে গেলো বটতলার দিকে।
শিখিয়ে গেলো সে, সেবা, দান বা উপকার কতটা নিরবে করতে হয়।
কতটা সঙ্গোপনে পুষতে হয় নিজের প্রত্যয়।
যেখানেই থাকো, ভালো থেকো ভাই।
আল্লাহপাক তোমাকে সবসময় সহিসালামত রাখুন।

ফেসবুক কর্ণার :