স্বচ্ছ হাসির আড়ালে ভয়ঙ্কর এক ছায়া-এভাবেই স্থানীয়রা চিহ্নিত করছেন মহানগর যুবলীগের আলোচিত নেতা মুন্সী সোহেল (৪৮)-কে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, দেশ-বিদেশে তার রয়েছে বিস্তৃত সংযোগ, যার প্রভাব কুমিল্লার একটি সংবেদনশীল এলাকায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
নুরপুরে অবস্থানকারী মুচি সম্প্রদায় মূলত ভারতীয় পটভূমি থেকে এসে ব্রিটিশ আমলে স্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছিল। তখন থেকেই তারা পাদুকা মেরামত, তৈরির কাজে নিযুক্ত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী জোট সরকারের আমলে দখলদার চক্রের প্রভাবে এই ঐতিহাসিক আশ্রয়স্থলকে নামমাত্র দামে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়টিকে অনেকে “রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিত সংখ্যালঘু শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর নিপীড়ন” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরপুর মুচিপট্টি বর্তমানে মুন্সী সোহেল বাহিনীর দখলে। অন্তত ১৫-২০ জন সশস্ত্র কিশোর গ্যাং তার নেতৃত্বে নারীদের প্রতি সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ রয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে বিএনপি নেতা খোকন এবং কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকাণ্ড।
চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানিয়েছেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভয়ংকর সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূল, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
২০২৫ সালের ৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় মুন্সী সোহেল, আমজাদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন এক ব্যবসায়ী। এর আগেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছবিসহ অভিযোগ দায়ের হয়।
মুন্সী সোহেল অভিযোগ অস্বীকার করে এক প্রতিবেদককে বলেন, “আমি আমেরিকার প্রবাসী। আওয়ামী লীগ করলেও বিএনপির বহু নেতাকে সহযোগিতা করেছি। কয়েকজন এসপি আমার বন্ধু, সেনাবাহিনীর একজন মেজর আমার আত্মীয়।”
স্থানীয়রা জানান, বারপাড়া এলাকা ভারতীয় চোরাচালান সিন্ডিকেটের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সক্রিয়তা এখানকার মাদক ও অস্ত্র পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় জনগণের দাবি, মুন্সী সোহেল বাহিনীর দখলদারি ও অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি চায় নুরপুরের সাধারণ মানুষ। মুচি সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক বসতির পুনর্বাসন ও সুরক্ষা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :