মোঃ সাখাওয়াত হোসেন (হৃদয়)
কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে চরমভাবে জরাজীর্ণ। লাকসাম থেকে মনোহরগঞ্জ প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে বড় বড় গর্ত, বিশেষ করে আশিরপাড় বাজার হইতে মনোহরগঞ্জ সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত ভাঙা কার্পেটিং এবং ধ্বংসপ্রায় অবকাঠামো যেন জনদুর্ভোগের স্থায়ী প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে, যার মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী যানবাহন এবং সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল দশা তাঁদের জন্য এখন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটির একাধিক স্থানে পানি উঠে গেলে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হতে থাকে, যা দিনদিন আরও বড় ও বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই গর্তগুলো পানিতে ঢেকে গিয়ে রীতিমতো প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা—অনেকে আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ প্রাণ হারানোর মতো অবস্থার মুখেও পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা এমন হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেই কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কিছুদিন আগে সামান্য মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন জীবন নিয়ে খেলাধুলা করার মতো। রোগী নিয়ে বের হলে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারি না। দুর্ঘটনার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।
মনোহরগঞ্জের এক সিএনজি চালক বলেন, এই রাস্তায় প্রতিদিন গাড়ি চালাই। যেকোনো সময় গাড়ির টায়ার গর্তে পড়ে উল্টে যেতে পারে, সেই ভয় নিয়েই গাড়ি চালাই। এভাবে চলতে থাকলে কখন যে কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয় আল্লাহ জানে।
সাধারণ মানুষের জোর দাবি অবিলম্বে এই মহাসড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। তারা চান, একটি উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই সড়ক, যা যাত্রীসাধারণকে নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ করে দেবে।
এই সড়কটি শুধু লাকসাম বা মনোহরগঞ্জ নয়, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অবহেলা নয়, প্রয়োজন এখন বাস্তবায়নের।
এবিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম দৈনিক কুমিল্লার ডাক-কে বলেন আমরা টেন্ডার জমা দিয়ে রেখেছি, আশা করছি খুব শিগগিরই সংস্করণ কাজ শুরু হবে।

মো: সাখাওয়াত হোসেন (হৃদয়) স্ট্যাফ রিপোর্টার