প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

তিন লাখ থেকে তের লাখ, এখন প্রতারকের পালা ভয় পাওয়ার”

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চেক জালিয়াতির এক ভয়াবহ উদাহরণে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার ঘটনা আজ ন্যায়বিচারের মুখে চরম প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকার চুক্তিপত্রে স্টাম্প করা লেনদেনের ভিত্তিতে তিন লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়, যার সময় উপস্থিত ছিলেন একাধিক সাক্ষী। সম্পর্কের সৌহার্দ্য বজায় রাখতে চুক্তির বাইরে আরও এক লাখ বিশ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। অথচ সেই সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারণার ছুরি একদিন এসে আঘাত করে হৃদয়ে-যখন হাওলাতের অজুহাতে দায়ের করা হয় একটি মিথ্যা মামলা।

চেকটি ছিল তিন লাখ টাকার। আসামি অংকে “৩,০০,০০০” লিখে চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকের ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়-বাংলা ও ইংরেজি অঙ্কের মিশ্র লেখায় “৩”-এর বাম পাশে সুকৌশলে একটি “১” বসিয়ে তা “১৩,০০,০০০” বানানো হয়েছে। এই অঙ্ক পরিবর্তন কোনো অসাবধানতা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। উদ্দেশ্য ছিল-চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে একজন নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানো।

এই ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় আদালত আসামিকে আট মাসের কারাদণ্ড ও চৌদ্দ লাখ বিশ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। অথচ চুক্তিপত্রের কপি সংরক্ষিত আছে, যেখানে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকার লেনদেনের সীমা নির্ধারিত। সেই চুক্তির বাইরে কোনো হাওলাতের প্রমাণ নেই, নেই কোনো বৈধ দাবি। আছে শুধু একটি চেক, যার অঙ্ক বিকৃত করে সাজানো হয়েছে একটি ফাঁদ।

এই ঘটনায় সিআইডি ফরেনসিক বিভাগে চেকের কালি, অঙ্কের গঠন, এবং স্বাক্ষরের মিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তদন্তে উঠে আসবে-অতিরিক্ত “১” বসানো হয়েছে কি না, এবং তা কোন কালি দিয়ে, কোন সময়, কোন উদ্দেশ্যে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হলে, মিথ্যা মামলার ভিত্তি ভেঙে পড়বে। আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন, এবং প্রতারণার অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের করতে পারেন।

এই প্রতিবেদন প্রতারকের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা-তুমি অঙ্ক বসিয়ে মানুষ ফাঁসাতে পারো, কিন্তু তুমি সত্যকে মুছে ফেলতে পারো না। তদন্ত শুরু হয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহ হচ্ছে, এবং ন্যায়বিচারের পথে একজন সাহসী মানুষ এগিয়ে চলেছেন। এখন প্রতারকের পালা ভয় পাওয়ার, কারণ সত্যের সামনে কোনো জালিয়াতি টিকবে না।

এই ঘটনা আমাদের সকলের জন্য একটি শিক্ষা-চুপ করে থাকা মানেই পরাজয় নয়, বরং নীরবতা থেকেই জন্ম নেয় প্রতিবাদ। এখন সময় এসেছে প্রতারণার মুখোশ উন্মোচনের, এবং ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার হওয়ার।

প্রিন্ট করুন