প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

এইচএসসি ফলাফলে নোয়াখালীর শিক্ষার্থীদের সামনে চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ফলাফল নোয়াখালীসহ কুমিল্লা বোর্ডের আওতাধীন জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এক গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে ফলাফল বিপর্যয় শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৫৭৬ জন। এর মধ্যে মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫৭ হাজার ৫২৪ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থী ৪২ হাজার ৫২ জন। পাশ করেছেন ৪৮ হাজার ৬৫৭ জন। মেয়েদের পাশের হার ৫৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাশের হার ৪২ দশমিক ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে-মোট ২ হাজার ৭০৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৯ জন মেয়ে এবং ৯৫৮ জন ছেলে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার তুলনামূলকভাবে ভালো-৬২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৮ এবং ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ পাস করেছেন, যা বোর্ডের সামগ্রিক দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরীন জানিয়েছেন, ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। ইংরেজিতে পাস করেছেন ৬৫ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং উচ্চতর গণিতে ৬০ দশমিক ৪৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এই দুই বিষয়ে দুর্বলতা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কুমিল্লা বোর্ডে ৫টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে, অথচ ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি। এই বৈষম্য শিক্ষার মান ও সুযোগের অসাম্যকে তুলে ধরে।

জাতীয় পর্যায়ে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ-৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, যশোর ও চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কুমিল্লার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নোয়াখালী জেলার শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দেয়। এই ফলাফল তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে প্রস্তুতি ও মানোন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে। ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন ভিত্তিমূলক পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ।

এইচএসসি ফলাফল শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি। নোয়াখালীর শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সময় নিজেদের প্রস্তুতি ও মনোযোগ পুনর্বিন্যাসের। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও নীতিগত সংস্কার।

প্রিন্ট করুন