প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ডিবির অভিযানে খড়ের নিচে সোনার পাহাড়!

ঢাকা অফিস :

রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত ফরচুন শপিংমলের শম্পা জুয়েলার্সে ঘটে যাওয়া ৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারাদেশে। দুর্ধর্ষ ও প্রশিক্ষিত চোরচক্রের তিন সদস্য সরাসরি এই চুরিতে অংশ নেন। তাদের মধ্যে দুজন রশি বেয়ে ভবনের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করেন, অপরজন নিচে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করেন। চুরি শেষে তিনজনই দ্রুত সটকে পড়েন।

 

শম্পা জুয়েলার্সের মালিক অচিন্ত কুমার বিশ্বাস জানান, ৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যান তিনি। পরদিন সকালে দোকানে এসে দেখেন, শোকেস ফাঁকা—৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪০০ ভরি ছিল দোকানের নিজস্ব, আর ১০০ ভরি বন্ধকি স্বর্ণালংকার। বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

 

চুরির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক। মামলাটি পরে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ৮ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে শপিংমলের পেছনের তৃতীয় তলার জানালার গ্রিল ভেঙে ভবনে ঢোকে চোররা। এরপর দ্বিতীয় তলায় শম্পা জুয়েলার্সের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ চোরচক্রের মূল সদস্যদের শনাক্ত করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এক চোরের বাড়ির উঠানে খড়ের গাদা সরিয়ে মাটির নিচে লাল ব্যাগে মোড়ানো দেড়শ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। অন্যদের কাছ থেকেও সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরচক্রটি স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়, তবে ডিবির তৎপরতায় তা বিক্রি করার সুযোগ পায়নি। এত দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনকে ডিবির বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট করুন