প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

দিল্লি থেকে নরম বার্তা, কলকাতায় আ.লীগে হতাশার ঝড়

অনলাইন ডেস্ক :

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দিল্লিতে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ই-মেইল সাক্ষাৎকারে নেত্রী বলেছেন, “তিনি বেশ মুক্ত অবস্থায় আছেন এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে দেশে ফিরতে চান না”। এই বক্তব্যে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কলকাতার নিউ টাউনের শাপুরজিতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেতারা প্রত্যাশা করেছিলেন, শেখ হাসিনা একটি জোরালো হুংকার দিয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’ আন্দোলনের রূপরেখা দেবেন। কিন্তু নেত্রীর নরম সুরের বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, “আর কতদিন বসে থাকব?” এমন হতাশার সুর এখন দলের অভ্যন্তরে প্রবল। নিষিদ্ধ দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। বৈঠকে কেউ কেউ মত দেন, যদি শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিতে অপারগ হন, তবে বিকল্প নেতৃত্ব ভাবা উচিত।

ওবায়দুল কাদেরও বৈঠকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে দলের অভ্যন্তরে বিভাজনের চিত্রও স্পষ্ট হয়। কেউ কেউ সরাসরি বলেন, “নেত্রীর অনুপস্থিতিতে দল কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না”।

শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কেবল “বৈধ সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন, যেখানে সংবিধান সুরক্ষিত থাকবে”। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যদি নির্বাচন হয়, তবে তার দল তা বয়কট করবে। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দল অংশ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দলের কর্মীদের হতাশ না হয়ে বিকল্প কৌশলে মনোনিবেশ করা উচিত কি না সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান দিতে পারেননি সাধারণ সম্পাদক।

প্রিন্ট করুন