কুমিল্লা সদর আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌয়ারা এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাকে একবার পরীক্ষা করে দেখুন, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হবে না। দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে, জীবনের শেষ সময়েও সম্মান দিয়েছে। আমি জীবন দিয়ে হলেও দলের সম্মান রক্ষা করবো।”
তিনি বলেন, “আমি দুর্ভাগা মানুষ, ৬৩ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আমাকে বাদ দেওয়ার জন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। কখনও নাঙ্গলকোট, কখনও লাকসাম, আবার কখনও চৌদ্দগ্রামের সঙ্গে আসন জুড়ে দিয়ে আমাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী লোটাস কামালের রোষানলে পড়ে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি, কিন্তু দল থেকে বিচ্যুত হইনি।”
দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইয়াছিন আমার দলের সতীর্থ ভাই। তাদের প্রতি কোনো রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান নেই। আমি নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি, এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে তারা কষ্ট পায়। আমরা সবাই জাতীয়তাবাদী পরিবারের অংশ। ধানের শীষের পক্ষে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করতে চাই।”
তিনি জানান, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলের নির্দেশনায় তার সকল কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনকে অনুরোধ করেছেন, মহানগর, সদর দক্ষিণ ও সদরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করতে। তিনি নিজেও ইয়াছিনকে একাধিকবার ফোন করেছেন এবং বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া বিএনপির প্রার্থী জসীমউদ্দীনকে অনুরোধ করেছেন ইয়াছিনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “১/১১ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ বিএনপিকে ছেড়ে যায়নি। জেল-জুলুম সহ্য করেও দলকে হৃদয়ে ধারণ করেছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “২০১৪ সালের চৌদ্দগ্রামে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় আমাকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আসামি করা হয়েছিল। আমি জেলে থেকেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আওয়ামী লীগ নিজেরা পেট্রোলবোমা মেরে আমাদের আসামি করেছে, রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে।”
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “মনোনয়ন দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমি আশা করি কুমিল্লার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের সুযোগ দেবে। আমার হাতে কিছু পরিকল্পনা আছে, ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করবো।”
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় আসেন মনিরুল হক চৌধুরী। তাঁকে বরণ করতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর ও কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় হাজারো নেতাকর্মী মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি নিজ বাসভবনে পৌঁছান, যেখানে জেলা, মহানগর, সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন :