প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বিদেশে বসে উস্কানিতে ঝটিকা মিছিল, কপাল পুড়ছে সাধারণ কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের অর্থায়নে পরিচালিত ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাধারণ কর্মীদের জীবন এখন চরম সংকটে। বিদেশে আয়েশী জীবনযাপনরত নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে টাকার বিনিময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে মিছিল করাচ্ছেন। এতে অর্থলোভী কিছু কর্মীর পাশাপাশি নিরীহ কর্মীরাও ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন।

 

সম্প্রতি কালাকচুয়া ও নগরীর ঈদগা এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মিছিলের পর থেকেই কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হার্ডলাইনে রয়েছে। চলতি নভেম্বর মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মী। ১৩ নভেম্বরের কথিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো নাশকতা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, পলাতক নেতারা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠিয়ে মিছিলের আয়োজন করছেন। প্রতিজন কর্মী পাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা, নেতারা পাচ্ছেন ১০ হাজার টাকা।

 

পলাতক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাস্টার। তাদের অর্থায়নে কুমিল্লাসহ সারাদেশে ঝটিকা মিছিল ও ব্যানার টানানোর ঘটনা ঘটছে। পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন আরও কয়েকজন অর্থদাতা।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অর্থভিত্তিক উস্কানি কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, সাধারণ কর্মীদের জীবনকেও বিপন্ন করছে। অনেক নিরীহ কর্মী বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোর নজরদারি চলছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।

প্রিন্ট করুন