প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পুলিশের নিরবতায় চান্দিনায় সংগঠিত হচ্ছে বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মীরা

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

চান্দিনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও শুকায়নি। অথচ সেই আন্দোলনে হামলার মামলার আসামিরা দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন যেন নিরব দর্শক।

বহুল আলোচিত এই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া চান্দিনা থানার মামলা নং-৪/২৪ ইং-এর এজাহারভুক্ত আসামিরা গ্রেফতার তো দূরের কথা, বরং স্থানীয় এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ শামীম এবং ওসি মো. জাবেদ উল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

সূত্র মতে, দীর্ঘদিন চান্দিনা থানায় কর্মরত থাকায় এসআই শামীম কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সেই সম্পর্কের সুযোগে মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মামলার আসামিরা স্ব স্ব এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করছে।

 

৩১ অক্টোবর দুপুর ২:১৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থানার সীমান্ত লগ্ন খাদঘর এলাকায়, চট্টগ্রামমুখী লেনে, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার পূর্ব দিকে রাস্তার উপর একটি রাজনৈতিক ব্যানার হাতে ১০-১৫ জন সক্রিয় কর্মী সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করে।

পরদিন ১ নভেম্বর জেলা ডিবি পুলিশ ও দেবিদ্বার থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও চান্দিনা থানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, জিআর-১৫৪/২৪ মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও চান্দিনা থানা পুলিশ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিরবতার সুযোগে কিছু নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মী সুসংগঠিত হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অথচ মামলার আসামিরা পার্শ্ববর্তী থানায় গ্রেফতার হলেও এখানে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

 

তারা আরও বলেন, “যদি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এলাকায় ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাজনৈতিক সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটতে পারে।”

প্রিন্ট করুন