প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ছয় দিনেও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ পুলিশ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

কুমিল্লার মুরাদনগরের সীমানারপাড় গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আদিবা জাহান মীম হত্যাকাণ্ডে ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। গলায় ভারী সীমানা পিলার বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধারের মতো স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তদন্তে ধীরগতি ও অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

 

২৪ অক্টোবর বিকেলে নিখোঁজ হয় মীম। পরিবারের আকুতি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার পরও পুলিশ ছয় দিন ধরে শুধু “তদন্ত চলছে” বলেই দায় সারে। অবশেষে ৩০ অক্টোবর দৌলতপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির লাশ। গলায় শক্ত করে বাঁধা ছিল একটি ভারী সীমানা পিলার—যা দেখে এলাকাবাসীই নিশ্চিত হন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ গ্রেফতার করে মীমের চাচাতো ভাই ইয়াসিনকে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। কিন্তু এরপরও পুলিশ জানাতে পারেনি, কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। নিহতের মা জান্নাত আক্তার অভিযোগ করেন, ইয়াসিন তার ওপর আক্রোশ ও লালসা চরিতার্থ করতে না পেরে শিশুটিকে হত্যা করেছে। অথচ পুলিশ বলছে, “আমরা এখনো নিশ্চিত নই।”

 

ঘাতক ইয়াসিন হত্যার পর দাফন-কাফনে অংশ নেয়, এমনকি শোক মিছিলেও শোকের অভিনয় করে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যে ছেলেটি এতটা ঠাণ্ডা মাথায় অভিনয় করতে পারে, তাকে শনাক্ত করতে পুলিশের ছয় দিন সময় লাগল কেন?

 

এই তদন্ত-ধীরগতির প্রতিবাদে সীমানারপাড় থেকে বাঙ্গরা পর্যন্ত বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়। হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “গ্রেফতার ইয়াসিন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।” তার এই বক্তব্যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসী।

প্রিন্ট করুন