প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

তিতাসে খাল দখল আর ড্রেনেজ বিপর্যয়ে কৃষকের হাহাকার

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাইচান্দকান্দি, ঘোষকান্দি, দক্ষিণ মানিকনগর, কাউলিয়ার চর, পুনিয়ারটন ও বড় মাছিমপুর এলাকার প্রায় সাড়ে ৩শ বিঘা ফসলি জমির মধ্যে ২০০ বিঘা জমি গত এক দশক ধরে জলাবদ্ধতায় পতিত হয়ে পড়ে আছে। খাল দখল করে গড়ে ওঠা মৎস্য প্রকল্প এবং বিএডিসির ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতাই এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাবদ্ধ জমিগুলো কচুরিপানা ও আগাছায় ভরা, কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি জমে আছে। এই জমিগুলোতে এক সময় তিন ফসল হতো। এখন সেখানে চাষাবাদ তো দূরের কথা, জমির প্রকৃত মূল্যেও বিক্রি করা যাচ্ছে না।

 

কালাইচান্দকান্দি গ্রামের মৃত সামাদ হামিদের বাড়ির পাশে একটি খাল থাকলেও তার দুই পাশে দখলদারদের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিএডিসি ১,১২৫ মিটার ভূ-গর্ভস্থ ড্রেনেজ পাইপলাইন নির্মাণ করলেও তা বর্তমানে অকেজো। ফলে গোমতী নদীতে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

 

স্থানীয় কৃষক মো. আর্শাদ মিয়া জানান, “ছোটবেলায় এই বিলজুড়ে নৌকা বাইচ হতো। এখন পানি জমে থাকে, চাষ করা যায় না।” কাঠমিস্ত্রি খোকন মিয়া বলেন, “জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দাম পাচ্ছি না। জলাবদ্ধতার কারণে জমির দাম অনেক কমে গেছে।” হোসেন মিয়া বলেন, “খাল দখল আর ড্রেন বন্ধ থাকায় পানি সরছে না। আগে যেখানে ফসল হতো, এখন সেখানে পানি আর আগাছা।”

 

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম সরকার বলেন, “খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার তদারকি না থাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়েছে।” বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাঈম সৌরভ বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে খালের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা শুধু কৃষকের জীবিকা নয়, এলাকার অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও জমি অনাবাদী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রিন্ট করুন