কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাখরনগর ও গুঞ্জুর গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ বাজার অংশে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়, যার ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বহু দোকানপাট ও বাড়িঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুইটি পিকআপ এবং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দুইটি মোটরসাইকেল।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় রাত ৮টার দিকে, যখন কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় বাখরনগরের ইমন ও গুঞ্জুর গ্রামের এক ভাড়াটিয়া যুবকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই যুবক কাঠমিস্ত্রিদের কাজে ব্যবহৃত লোহার বাটাম দিয়ে ইমনের বাঁ পায়ে আঘাত করে। মুহূর্তেই ঘটনাটি দুই গ্রামের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়।
ইমন অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আব্দুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে তাকে আঘাত করায়। এরপর তার গ্রামের লোকজন গেলে আবারো হামলার শিকার হন তারা। এতে বাখরনগরের প্রায় ৩০ জন আহত হন।
অন্যদিকে গুঞ্জুর গ্রামের আব্দুল্লাহ দাবি করেন, ইমনের সঙ্গে তাদের গ্রামের এক ভাড়াটিয়া নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। ওই নারীর স্বামীকে দেখে ইমন পালাতে গেলে তিনি ইমনকে আঘাত করেন। এর জেরে ইমন তাদের গ্রামে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে গুঞ্জুর গ্রামের প্রায় ২০ জন আহত হন।
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মুরাদনগর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :