প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সুচিকিৎসার অভাবে মৃ-ত্যু-ঝুঁকিতে DMD আক্রান্ত চৌদ্দগ্রামের শিশু জিহাদী

সাইদুল হক, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের পন্নারা গ্রামের খোদেজা আক্তার সুমি ও আমান উল্লাহ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান আব্দুল্লাহ আল জিহাদী (৯)। স্বাভাবিকভাবেই বড় হচ্ছিল শিশু জিহাদী। কিন্তু বয়স পাঁচে পা দিতেই তার চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। পরিবার প্রথমে এটিকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি গুরুতর হলে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, জিহাদী আক্রান্ত হয়েছে বিরল রোগ মাসকুলার ডিএমডি (Duchenne Muscular Dystrophy – DMD)-তে। চিকিৎসকদের মতে এটি মূলত জেনগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশে এই রোগের পূর্ণ চিকিৎসা নেই।

জিহাদীর মা খোদেজা আক্তার সুমি জানান,
“আমার সন্তানকে এভাবে দেখব কোনোদিন ভাবিনি। পাঁচ বছর বয়সে যখন হাঁটাচলা স্বাভাবিক ছিল না তখন সাইল্ড নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যাই। তিনি বলেন দেশে এর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেই, শুধু থেরাপির মাধ্যমে কিছুটা সহায়তা দেওয়া যায়।”

তিনি আরও জানান,
“দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পায় জিহাদী। এরপর থেকে আর তাকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। অন্য বাচ্চাদের মতো হাঁটতে পারে না। কোনো চিকিৎসা না থাকায় আমার সন্তান চোখের সামনে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে। বিদেশে—জাপান, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা থাকলেও তা ব্যয়বহুল। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা অসম্ভব।”

তিনি সরকারের প্রতি গভীর অনুরোধ জানিয়ে বলেন,
“সরকার যদি এইসব শিশুদের জন্য সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু না করে, তাহলে এরা দিনের পর দিন এমনভাবেই মৃত্যুর দোয়ারে ঠেকবে। আমার সন্তানের জীবন রক্ষায় দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে,
বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই DMD রোগের উন্নত চিকিৎসা রয়েছে, তবে খরচ অত্যন্ত বেশি। বাংলাদেশে এখনো এর কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। ফলে আক্রান্ত শিশুরা ধীরে ধীরে চলাফেরার ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং একসময় জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

জিহাদীর পরিবার এখন সমাজের দানশীল মানুষদের পাশাপাশি সরকারি সহায়তার প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে।

প্রিন্ট করুন