প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস আজ

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

আজ ৪ ডিসেম্বর, কুমিল্লার দেবীদ্বার হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় দেবীদ্বার। দিনটি স্মরণে উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।

 

মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে একে একে হানাদারমুক্ত হতে থাকে কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চল। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতু মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দেয়। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল আর. ডি. হিরার নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় পরিচালিত হয় এই অভিযান।

 

মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহর বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে দেবীদ্বারে প্রবেশ করলে রাতের আঁধারে পাক হানাদাররা পালিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকেন মুক্ত এলাকার দিকে। তবে দেবীদ্বার থেকে চান্দিনা অভিমুখে যাওয়ার পথে মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ে শহীদ হন ছয় সেনা।

 

এই দিন দেবীদ্বারের আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। বিজয়ের উল্লাসে প্রকম্পিত হয় উপজেলা সদর। দেবীদ্বার ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, কারণ কাছেই ছিল ময়নামতি সেনাছাউনি। স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিন পরই এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে ১৫ জন পাক সেনাকে হত্যা করেন, শহীদ হন ৩৩ জন বাঙালি যোদ্ধা।

 

দেবীদ্বার ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে হানাদারদের নৃশংসতার স্মৃতি। ফতেহাবাদের ‘নলআরা’ জঙ্গল ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের এলাহাবাদের বাড়িতে ছিল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

 

এ অঞ্চলের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে ১৯ শহীদের গণকবর, শহীদ আবুবকরের কবর, ভূষনা ও বারুর গ্রামের শহীদদের কবর, মাওলানা আলীমুদ্দিন পিরের দুই নাতির কবর, ভিড়াল্লার শহীদ মজিবুর রহমান খানের কবর, মহেশপুরের ১৪ মুক্তিযোদ্ধার কবর, বরকামতার ২৬ শহীদের কবরসহ অসংখ্য স্মৃতিস্তম্ভ।

প্রিন্ট করুন