শ্রীলঙ্কায় এক কেজি আলুর দাম ৫০০ রুপি ছাড়িয়েছে। অথচ বাংলাদেশে হিমাগারের আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকার নিচে। এই বিপরীতমুখী বাস্তবতা শুধু বাজারের খবর নয়—এটি হয়ে উঠতে পারে এক নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার নাম।
গত ২৮ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’ আঘাত হানার পর শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত। ২৫টি জেলা প্লাবিত, ৪১০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। লাখো মানুষ গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।
এই দুর্যোগের আগেই দেশটি মারাত্মক খরায় ভুগছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫ লাখের বেশি মানুষ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। সবজির দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত। আলু, চাল, ডাল—সবই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
শ্রীলঙ্কা মূলত আমদানি নির্ভর একটি অর্থনীতি। আলু তাদের অন্যতম প্রধান খাদ্যপণ্য হলেও উৎপাদনের চেয়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মাথাপিছু বার্ষিক আলু খাওয়ার পরিমাণ ৮.১২ কেজি। বছরে মোট ব্যবহৃত হয় প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন আলু, যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে বাংলাদেশ থেকে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি শ্রীলঙ্কায় ত্রাণ হিসেবে আলু পাঠায়, তবে তা হবে একদিকে মানবিক সহায়তা, অন্যদিকে দেশের কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ। চলতি মৌসুমে দাম না পেয়ে বহু আলুচাষি লোকসানে পড়েছেন। অনেকেই চাষ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
শ্রীলঙ্কায় আলু পাঠানো হলে তারা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আলুর মান ও প্রতিযোগিতামূলক দামের পরিচিতি বাড়বে।
গত আগস্টে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশের আলু ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়। উদ্বোধনী দিনে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী দীনেশ গুনাবর্ধনে বাংলাদেশ স্টলে এসে আলু রপ্তানিকারকদের ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১০ টন ত্রাণসামগ্রী বিমানযোগে শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়েছে। তবে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আরও সহায়তা প্রয়োজন। জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ যদি আলু পাঠায়, তবে তা হবে মানবিকতার পাশাপাশি কৌশলগত বাণিজ্যেরও এক স্মার্ট পদক্ষেপ।
ত্রাণ নয়, আলু হতে পারে রপ্তানির নতুন দুয়ার। কৃষক বাঁচবে, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, আর শ্রীলঙ্কার মানুষ পাবে একটুখানি স্বস্তি।

অনলাইন ডেস্ক :