ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে এখনো কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
রোববার থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকেই সর্বাধিক ১২টি মনোনয়ন সংগ্রহ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ৭টি, এনসিপি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের একটি করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ৩টি মনোনয়ন সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তার কারণে অনেক দল একই আসনে একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আবার কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে সমর্থকরাও একাধিক মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তবে যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ হবে।
আসনভিত্তিক মনোনয়ন সংগ্রহের চিত্র:
– কুমিল্লা-০১ (দাউদকান্দি-মেঘনা): বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বিকল্প প্রার্থী খন্দকার মারুফ হোসেন, জামায়াতের মনিরুজ্জামান বাহলুল।
– কুমিল্লা-০২ (হোমনা-তিতাস): স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনোয়ার হোসেন।
– কুমিল্লা-০৩ (মুরাদনগর): বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. খোরশেদ আলম।
– কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার): বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, এফএম তারেক মুন্সী, আবদুল আউয়াল খান; জামায়াতের সাইফুল ইসলাম শহিদ।
– কুমিল্লা-০৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): জামায়াতের মোবারক হোসাইনের পক্ষে ২টি মনোনয়ন।
– কুমিল্লা-০৬ (সদর-সদর দক্ষিণ): বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী, এনসিপির নাভিদ নওরোজ শাহ।
– কুমিল্লা-০৭ (চান্দিনা): জামায়াতের মাওলানা মোশাররফ হোসেন।
– কুমিল্লা-০৮ (বরুড়া): জামায়াতের শফিকুল আলম হেলাল, স্বতন্ত্র মফিজ উদ্দিন।
– কুমিল্লা-০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির আবুল কালাম (২টি), সামিরা আজিম দোলা, ইয়াসির মো. ফয়সাল আশিক (২টি); জামায়াতের সৈয়দ একেএম সারোয়ার; ইসলামী আন্দোলনের সেলিম মাহমুদ।
– কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই): বিএনপির আবদুল গফুর ভুইয়া।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজা হাসান জানান, “কুমিল্লা বড় জেলা হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আচরণবিধি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি চলছে।”
তিনি আরও জানান, দুইজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর, যাচাই-বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি, আপিল ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :