প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

৩০০ ফুটের নদী এখন ৫০ ফুটের নর্দমা

অনলাইন ডেস্ক :

কুমিল্লা নগরীর প্রাণপুরুষ ধর্মসাগরের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাধার হিসেবে পরিচিত পুরাতন গোমতী নদী আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় ৩০০ ফুট প্রস্থের এই নদী এখন দখল, দূষণ ও অবহেলায় সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ ফুটে। নদীর বুকজুড়ে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বহুতল ভবন, আবর্জনার স্তূপ আর দুর্গন্ধের রাজত্ব।

 

নগরীর শুভপুর, চাঁনপুর, সুজানগর, গাংচর, টিক্কারচর, গয়ামবাগিচা, মোগলটুলী, শাহসুজা মসজিদ রোড, পুরাতন চৌধুরীপাড়া ও কাপ্তানবাজার এলাকায় পুরাতন গোমতীর দুই পাড়জুড়ে প্রায় ২০০ একর সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। সাত শতাধিক অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত হলেও কার্যকর উচ্ছেদ হয়নি। ২০০৩ সাল থেকে ২১ বার উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি কোনো অভিযান।

 

২০১৭ সালে তৎকালীন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পুরাতন গোমতীকে হাতিরঝিলের আদলে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২১ সালে একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন পেলেও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কাজী আসিফ আহমেদ বলেন, “পুরাতন গোমতী নদী বেদখলের কারণে ৩০০ ফুটের নদী এখন ৫০ ফুটে এসে ঠেকেছে। সরকার চাইলে এটি উদ্ধার সম্ভব।”

সাংস্কৃতিক সংগঠক অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, “পুরাতন গোমতী কুমিল্লার সম্পদ হতে পারত, অথচ এখন এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।”

সুজন কুমিল্লা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান টিটু বলেন, “কুমিল্লা বিভাগীয় শহর হতে যাচ্ছে, কিন্তু বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার উদ্যোগ নেই।”

বাপা কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, “নদীটিকে ঘিরে গড়ে তোলা যেতে পারে নৌভ্রমণ, ভাসমান রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্র।”

 

নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে পুরাতন গোমতী নদীকে দখলমুক্ত করে হাতিরঝিলের আদলে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হোক। না হলে হারিয়ে যাবে কুমিল্লার সম্ভাবনাময় এক ঐতিহাসিক জলাধার।

#মহিউদ্দিন মোল্লা

প্রিন্ট করুন