প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রধান শিক্ষক বহিষ্কার নিয়ম না ব্যক্তিগত রেষারেষি

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ।

 

গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে এক মুলতবি সভায় সভাপতি খোরশেদ আলম ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন এবং সিনিয়র সহকারী শিক্ষক বিজয় কুমার দত্তকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা দেন। অথচ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান ৪৪(৬) অনুযায়ী, মুলতবি সভায় কোনো শিক্ষককে নিয়োগ বা বহিষ্কার করা যাবে না।

 

স্থানীয়রা বলেন, “বিদ্যালয়টি কোনো বোর্ড প্রতিষ্ঠিত করেনি, এটি আমাদের শ্রম ও ভালোবাসায় গড়া। একক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, সভাপতি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোহনপুর গ্রামকে ‘বাটপারের গ্রাম’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা গ্রামবাসীর জন্য অপমানজনক।

 

প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, “নিয়মের বাইরে গিয়ে সভাপতি ও সিনিয়র শিক্ষক বিজয় কুমার দত্ত মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আমাকে সরানোর চেষ্টা করছেন। প্রবিধান অনুযায়ী মুলতবি সভায় বহিষ্কার অবৈধ।”

 

অন্যদিকে সভাপতি খোরশেদ আলম দাবি করেন, “বোর্ডের নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড যেন বিষয়টি পূর্ণবিবেচনায় নিয়ে সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

প্রিন্ট করুন