প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী শামীম গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা মহানগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ বীর ও র‍্যাব-১১ (সিপিসি-২)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ নাজমুল ইসলাম শামীম নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার ২০ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নাজমুল ইসলাম শামীমের নিজ বাসভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার বাসা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি ও বিদেশি গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালানো হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এরপর র‍্যাব-১১ (সিপিসি-২) আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং ব্যবহার করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটক নাজমুল ইসলাম শামীম কুমিল্লা মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মরহুম আব্দুল হালিমের ছেলে।

অভিযানে উদ্ধার করা হয় স্থানীয়ভাবে তৈরি ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র বা পাইপগান ৬০ রাউন্ড শটগান কার্তুজ যার মধ্যে ১২ বোর × ৭০ মিমি ৪০ রাউন্ড এবং ১২ বোর × ৭৬ মিমি ২০ রাউন্ড ১৮ রাউন্ড মেশিনগান গোলাবারুদ ৭.৬২×৫৪ মিমি পিওএফ নির্মিত ১ রাউন্ড পিস্তল গোলাবারুদ ৭.৬২×২৫ মিমি টোকারেভ এস অ্যান্ড বি নির্মিত ১ রাউন্ড রিভলভার বা এয়ারগান গোলাবারুদ ১০টি ছুরি চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল ২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ৮টি মানিব্যাগ একাধিক এটিএম কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র।

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী নাজমুল ইসলাম শামীম জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলেও জানা যায়। এছাড়া তিনি কুমিল্লা শহরের একজন চিহ্নিত বড় চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে সাহস পান না।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী নাজমুল ইসলাম শামীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।

আটক সন্ত্রাসীকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়কত্বে ২৩ বীর কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযান কুমিল্লা অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সফল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন