প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সাক্কুর মনোনয়ন ফরম কেনার ঘোষণা ঘিরে কুমিল্লা-৬ এ নতুন মেরুকরণ

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন :

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র ও বিএনপি থেকে আজীবন বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কু আবারও আলোচনায়। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন ফরম কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

 

সাক্কু সম্প্রতি ঢাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। এতে গুঞ্জন ওঠে, তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কেনার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরুল হক চৌধুরী। অপরদিকে, একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দলের আরেক উপদেষ্টা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। সাক্কুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই বৈরী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সাক্কুর মনোনয়ন ফরম কেনার ঘোষণা কৌশলগত চাল হতে পারে, যার মাধ্যমে তিনি ইয়াছিনকে চাপে ফেলতে চাইছেন।

 

সাক্কু বলেন, “মনোনয়ন কিনতে সমস্যা কী? এখনও তো মনিরুল হক চৌধুরীর জন্যই ভোট চাচ্ছি। হাজি ইয়াছিনের থেকে বেশিই মাঠে কাজ করছি।” তিনি জানান, রোববার সকালে প্রতিনিধির মাধ্যমে ফরম সংগ্রহ করবেন এবং নিজে গিয়ে জমা দেবেন।

 

অন্যদিকে, হাজি ইয়াছিন বলেন, “যে কেউ মনোনয়ন ফরম কিনতেই পারেন। এটা তো গণতান্ত্রিক অধিকার।” তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন এবং শেষ সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “এটা সাক্কুর একটি নিজস্ব কৌশল হতে পারে। তবে সে আমার পক্ষেই মাঠে কাজ করছে।”

 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে নাগরিক কমিটির ব্যানারে মেয়র নির্বাচিত হন সাক্কু। ২০১৭ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয়বার মেয়র হন। ২০২২ সালে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও জয়ী হতে পারেননি।

 

সাক্কুর এই নতুন পদক্ষেপ কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

প্রিন্ট করুন