প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পীড়ন চালানো নেতারা এবার বিএনপিতে!

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পীড়ন চালিয়েছেন, সেই আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। রোববার কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান মুন্সির নিজ বাড়িতে এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত ২০০ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আলম হাজারী, বড়শালঘর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিয়া রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা টিটু মইশান, নাজমুল, আতাউর রহমান সয়ন ও তাঁর বাবা বজলু আমিন, জানু মিয়া, ইদ্রিস খান, ফরিদ হাজারী, মোহাম্মদ শাহিন (বড়শালঘর), শাহ আলীসহ আরও অনেকে।

 

এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সি এবং উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

 

তবে এই যোগদানকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি বিএনপির অনেক তৃণমূল নেতাকর্মীও বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন।

 

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ক্ষমতার জন্য আজ আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিএনপিতে আনা হচ্ছে। গত ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে, তাদের পুনর্বাসন তৃণমূল বিএনপির জন্য অপমানজনক।”

 

বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা সদস্যসচিব এএফএম তারেক মুন্সি বলেন, “যদি কেউ রাজনীতি করে কিন্তু দলে পদে না থাকে, তাহলে সে যোগ দিতে পারে। কিন্তু যারা ফ্যাসিবাদী দলে দায়িত্বে ছিল, তাদের বিএনপিতে নেওয়া লজ্জাজনক। আমি বিষয়টি হাইকমান্ডকে জানাব।”

 

জামায়াতের এমপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ বলেন, “যারা অতীতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে, তারা এখন ব্যবসায়িক স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে-এটা দুঃখজনক।”

 

বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল হাসান মুন্সির কাছে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রিন্ট করুন