আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলেছে। পূর্বঘোষিত ২৭২টি আসনের প্রাথমিক তালিকা থেকে একাধিক প্রার্থী বাদ পড়ছেন। পাশাপাশি আন্দোলনের শরিকদের জন্য নির্ধারিত আসনও প্রায় চূড়ান্ত করেছে দলটি। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, “মাঠপর্যায়ের জরিপ ও সাংগঠনিক মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত বলা যাবে না। প্রয়োজনে পরিবর্তন আসবে এবং কোনো কোন্দল বরদাশত করা হবে না।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার শেষ হওয়া তিন দিনের কর্মশালায় যাঁদের ডাকা হয়েছে, তাঁদের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাঁদের আসনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে ডাকা হয়েছে। একইভাবে ঝালকাঠি-২, চট্টগ্রাম-৬ ও যশোর-৬ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাগেরহাট জেলার চারটি আসনে প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে—দুই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা—ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (ঢাকা-১২) সহ পাঁচজনের আসন নিশ্চিত হয়েছে। ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও গণফোরামকে আপাতত আসন না দিলেও ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে ডাকা হয়েছে। বাকি ফাঁকা আসনগুলো শরিক ও মিত্রদের জন্য রাখা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদনের পরই তালিকা চূড়ান্ত হবে। আজ বা আগামীকালই তা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক :