রক্তে ভিজে গেল মহাসড়ক, ছিন্নভিন্ন বাসের ভেতর চাপা পড়ে নিথর হয়ে গেল এক জীবন।
সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার বরল মেঘনা কোল্ড স্টোরের সামনে ঘটে গেল এক বিভীষিকাময় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। ঢাকাগামী জোনাকী এক্সপ্রেস, নোয়াখালীগামী একুশে এক্সপ্রেস ও একটি ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একজন, আহত হন শতাধিক যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জোনাকী ও লাল-সবুজ বাস দুটি দ্রুতগতিতে প্রতিযোগিতা করে ওভারটেক করার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে প্রথম ধাক্কা লাগে। ট্রাক্টরটি ছিটকে গিয়ে একুশে এক্সপ্রেসের সামনে পড়ে। একের পর এক সংঘর্ষে মুহূর্তেই রাস্তায় নেমে আসে বিভীষিকা।
নিহত ট্রাক্টরচালক মোঃ জসীম উদ্দিন (৪৫), জয়নগরের মোঃ আলী আক্কাসের বড় ছেলে। ট্রাক্টরে থাকা অপর আরোহী মোঃ জাহিদ হোসেন (২৫), কাকসার গ্রামের বাসিন্দা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, জান্নাত ফার্নিচার অ্যান্ড অটোবি শো-রুমের দেয়াল ও গ্লাস ভেঙে ৩৩ হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক পিলার উপড়ে পড়ে। জোনাকী বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং পিলারটি বাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাসটি পিলারসহ প্রায় ৫০-৬০ গজ দূরে গিয়ে থামে।
জোনাকী বাসের চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর একটি টিম, লালমাই থানা পুলিশ, লাকসাম ক্রসিং হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লাকসাম সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
লাকসাম হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ আদেল আকবর জানান, ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফলে রোড ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। পরে ক্রেনের মাধ্যমে তা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাইন উদ্দিন :