বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এই চুক্তির আওতায় জাপান বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারবে। অপরদিকে, বাংলাদেশও জাপান থেকে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু পণ্য নয়, এই চুক্তিতে সেবাখাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ৯৭টি এবং জাপান ১২০টি সেবা খাত উন্মুক্ত করবে, যা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা এস কে বসির উদ্দিন জানান, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে আলোচনা শুরু হয় এবং আট দফা বৈঠকের পর চুক্তি চূড়ান্ত হয়।
আলোচনার প্রথম রাউন্ড হয় ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকায়। কিছু সময় স্থগিত থাকার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ও টোকিওতে একাধিক রাউন্ডে আলোচনা হয়। শেষ রাউন্ডে টোকিওতে চূড়ান্ত হয় ইপিএ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

অনলাইন ডেস্ক :