দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সরকার নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার এই অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং আজ শুক্রবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য পৃথক ব্যাংক গ্যারান্টির বাধ্যবাধকতা। অফলাইন এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা এবং অনলাইন এজেন্সির জন্য ১ কোটি টাকার গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরিকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় (B2B) করতে পারবে না এবং টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া লেনদেন করা যাবে না।
গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মিথ্যা প্রলোভন, প্রতারণা বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর তথ্য পরিবর্তন করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে শাস্তির বিধানে। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে তাকে অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। প্রতারণা বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতাও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রতি ৩ বছর অন্তর সনদ নবায়ন করতে হবে এবং প্রতিবছর আর্থিক বিবরণীসহ কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক। ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

অনলাইন ডেস্ক :