প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বানিয়াচং থানার এসআই সন্তোষ আগস্টে শিশু হোসাইনসহ ৯ জনকে হ-ত্যা করে

অনলাইন ডেস্ক :

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলন যখন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখনই ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায় রচিত হয়। ৫ আগস্ট, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেই দিনই সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় ঘটে এক নির্মম হত্যাকাণ্ড—যা আজও জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।

 

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে বানিয়াচং শহীদ মিনার থেকে একটি বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি থানার সামনে পৌঁছালে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সন্তোষের নেতৃত্বে মিছিলকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি, শুরু হয় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই সংঘর্ষে শহীদ হন ৯ জন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শিশু হোসাইন মিয়া (১২), কিশোর আশরাফুল (১৭), নয়ন হোসেন (১৮), তোফাজ্জল হোসেন (১৮), যুবক মোজাক্কির (৪০), সাদিকুর রহমান (৩০), সুহেল আখঞ্জি, মো. আনাছ মিয়া ও আকিনুর রহমান। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়।

 

ঘটনার এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়ে এসআই সন্তোষকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। স্থানীয়রা জানান, জুলাই মাস থেকেই এসআই সন্তোষ এলাকায় আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিলেন। আন্দোলন দমন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার ছাত্রদের ওপর হামলা চালান। ৫ আগস্টের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল সরাসরি হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে।

 

এই দিনটি হয়ে ওঠে গণআন্দোলনের এক রক্তাক্ত মাইলফলক, যা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয় বানিয়াচংয়ের মাটি, আর ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা হয় এক নতুন ইতিহাস।

প্রিন্ট করুন