সম্প্রতি কুমিল্লার প্রান্তিক এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ধারাবাহিকভাবে গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ধরন এক হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। কুমিল্লা জেলার মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্ট জোরদার এবং পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণ করে গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর রাত ৩টা ২০ মিনিটে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি আন্তঃজেলা অভ্যাসগত গরু ডাকাত চক্র চোরাই গাভী গরু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ফেনী থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে যাচ্ছিল।
অভিযানে ডিবির একটি চৌকস দল আন্তঃজেলা চোর ও ডাকাত চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতের ৮টি চোরাই গাভী গরু, একটি পিকআপ ভ্যান এবং চুরি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা কুমিল্লার চান্দিনা ও লাকসাম থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক গরু ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড যাচাই এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই আন্তঃজেলা চোর চক্রের ওপর নজরদারি করছিলাম। তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে চুরি ও ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা এই চক্রের সক্রিয় সদস্য।”

নিজস্ব প্রতিবেদক