প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

তীব্র গ্যাস সংকটে কুমিল্লা, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক পরিবার

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন

নাজমা বেগম তিন সন্তানের জননী, পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো সকালবেলা কাজে যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য রান্না করতে রান্নাঘরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না তো দূরের কথা, হাঁড়িতে আগুনই ধরেনি। শেষ পর্যন্ত নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য রান্না না করেই কর্মস্থলে চলে যেতে হয় তাকে। দিন শেষে না তিনি খেতে পেরেছেন, না তার সন্তানেরা। কুমিল্লা নগরীতে এমন চিত্র এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রতিদিনের গল্প।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরের কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চর্থা মুরাদপুর, হালুয়াপাড়া, আশ্রাফপুরসহ বাখরাবাদ এলাকা জুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। সারাদিন গ্যাস মিটিমিটি করে জ্বলে, ফলে অধিকাংশ পরিবার দুপুরের খাবার রান্না করতে পারে না। বাধ্য হয়ে কেউ না খেয়ে থাকছে, কেউ আবার হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য।
অনেক পরিবার উপায় না পেয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছে। এতে মাসিক ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য চরম চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তোফায়েল হোসেন কাউসার নামের এক গৃহকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাস শেষে ঠিকই আমাদের কাছ থেকে গ্যাসের বিল নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে আমরা ন্যূনতম সুবিধাটুকুও পাচ্ছি না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, পুরাতন পাইপলাইন সময়মতো সংস্কার না করা, তদারকির অভাব এবং কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক লাইনের অতিরিক্ত ব্যবহার এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এসব কারণে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নিরবতা আর অবহেলার মধ্য দিয়েই যেন চলতে থাকে কুমিল্লা নগরের গ্যাস সংকট।
চুলার আগুনের অভাবে প্রতিদিন যে নীরব কষ্ট জমছে হাজারো ঘরে, তা এখন আর সহনীয় নয়। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।
ফটোকার্ড চুম্বক অংশ
চুলায় আগুন নেই, তবু বিল ঠিকই যাচ্ছে কুমিল্লা নগরীতে গ্যাস সংকটে না খেয়ে দিন কাটছে হাজারো পরিবারের

প্রিন্ট করুন