প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

এক হাজার অটোগ্যাস বন্ধ গ্যাস নেই রান্না নেই ভোগান্তি চরমে

অনলাইন ডেস্ক :

সারা দেশে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, পরিবহন ও শিল্প খাতে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলপিজির সরবরাহ সংকট, যার ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে নৈরাজ্য। সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

 

শীতকালে পাইপলাইনে জলীয় বাষ্প জমে যাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। একই সঙ্গে পানি গরম ও রান্নার জন্য চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে কয়েকগুণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির আগে সংকট কাটার সম্ভাবনা নেই।

 

রাজধানীর মগবাজার, মোহাম্মদপুর, মুগদা, বাড্ডা, রামপুরা, শান্তিবাগ, পুরান ঢাকা, মিরপুর, কল্যাণপুর, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গত ১৫ দিন ধরে গ্যাস না থাকায় মানুষ হোটেলনির্ভর হয়ে পড়েছেন। অথচ গ্যাস বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে, ফলে অনেক পরিবারের ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

 

বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩০৬ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার বেশি দামে বিক্রি করলে অভিযানের ভয়ও রয়েছে।

 

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ মাত্র ২.৫ থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি ১ থেকে ১.৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

 

এলপিজি সংকটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা জানান, সরকারের উৎসাহে স্থাপিত দেশের প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন বর্তমানে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবহন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

প্রিন্ট করুন