কুমিল্লা আদালত এলাকা ও আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ দুটি ঘোড়ার দৌরাত্ম্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘোড়া প্রায়ই পথচারী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে কামড়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, ঘোড়াগুলোর আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ায় সেগুলো পাগলা কিংবা কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে চলাচলের সময় একাধিক আইনজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ ঘোড়ার কামড়ে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই ঘোড়াগুলো উত্তেজিত হয়ে মানুষকে তাড়া করে কামড়ে দেয়। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘোড়ার কামড়ে আহতদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখা দিচ্ছে নতুন সংকট। কুমিল্লা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন না পাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক দামের দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
শুধু ঘোড়ার কামড়ই নয়, প্রতিদিন কুকুর ও বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত বহু রোগী সদর হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন পাচ্ছেন না। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত আদালত এলাকা থেকে বেওয়ারিশ প্রাণী অপসারণ, সংশ্লিষ্ট প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার রেজা বলেন, “জেলায় বর্তমানে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, তাই আক্রান্তদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

মহানগর প্রতিনিধি