ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। জামায়াতের তিনটি নির্বাচনী অফিস, একটি মুদি দোকান ও একটি মহিলা মাদরাসার বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে বিএনপির একটি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ও সোমবার ভোররাতে বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদরাসার ছাত্রীদের বহনকারী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া তেলিপুকুর পাড়, ধনিজকরা বাজার ও কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর মোসলেম মার্কেটে জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানো হয়।
গাছবাড়িয়ায় জামায়াত অফিসের পাশে থাকা মুদি দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দোকান মালিক মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, মুখোশপরা তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী গভীর রাতে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে তার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।
ধনিজকরায় শাহাদাত হোসেন গোলাপের মালিকানাধীন মার্কেটের কয়েকটি দোকানও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, জামায়াতের সশস্ত্র কর্মীরা ধনিজকরায় তাদের পার্টি অফিস ও কর্মী বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
সোমবার দুপুরে ধনিজকরা বাজারে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন ও জামায়াত সমর্থক তাসকিন আহত হন।
বাসে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদরাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ বেলাল হোসাইন বলেন, “বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসমর্থন না পেয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে।” অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, “জামায়াতের সশস্ত্র কর্মীরা আমাদের অফিস ও বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।”
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ গুলজার আলম জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক :