প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ উপেক্ষা করে ওসির অসহযোগিতা, মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে। সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার ফ্লাইওভার ব্রিজের পশ্চিম পাশে মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছিলেন—এমন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে আসে।

খবর পেয়ে জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের অন্তত ৭–৮ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানান এবং সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত হননি। পরে সাংবাদিকরা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, শুরুতে কিছুটা অসহযোগিতা থাকলেও বর্তমানে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে মাটি খেকো চক্র কিছুটা সক্রিয় হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

ঘটনার পর শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংবাদ লেখা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না গেলেও উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানা পুলিশের কিছু সদস্যের গোপন সমন্বয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন এলাকায় মাটি কাটার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক নির্ধারিত অংকের টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাতের টহল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের চা-নাশতার নামেও অর্থ আদায় করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, থানার কিছু খরচ মেটানোর জন্য নিয়মিতভাবে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং রাতে টহল চলাকালে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী।

প্রিন্ট করুন