প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ৮২ লাখ মানুষ আসক্ত

অনলাইন ডেস্ক :

সর্বনাশা মাদকের ছোবল

দেশে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। অভিভাবকরা আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত—কখন তাদের সন্তান নেশার জালে আটকা পড়ে মরণকূপে চলে যায় সেই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

গবেষণার ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত জাতীয় পর্যায়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা—ব্যবহারকারী প্রায় ৬১ লাখ।

 

বিভাগভেদে মাদক ব্যবহার

গবেষণায় দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি—৬ দশমিক ০২ শতাংশ। এরপর রংপুরে ৬ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে রাজশাহী (২ দশমিক ৭২ শতাংশ) ও খুলনা বিভাগে (৪ দশমিক ০৮ শতাংশ) হার কম। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী ঢাকা বিভাগে—প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার।

 

মাদকের ধরন ও ঝুঁকি

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত গাঁজা ছাড়াও ইয়াবা (২৩ লাখ), অ্যালকোহল (২০ লাখ), কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার, যাদের মধ্যে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

 

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ

প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮–১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং ৫৯ শতাংশ শুরু করে ১৮–২৫ বছর বয়সে। বেকারত্ব, বন্ধুমহলের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও পারিবারিক অস্থিরতা মাদক ব্যবহারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আশঙ্কাজনকভাবে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন—মাদক সহজেই পাওয়া যায়।

 

প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “আমরা ভাবি মাদকাসক্তরা অন্য কেউ। কিন্তু বাস্তবে আমরা এবং আমাদের সন্তানরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি।”

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, পরিবার থেকেই প্রতিরোধ শুরু করতে হবে। ইতোমধ্যে সাত বিভাগে ২০০ শয্যার পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমান্তে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও সামাজিক আন্দোলনের দুর্বলতার কারণে মাদকের বিস্তার থামছে না।

 

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সংকট

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৩ শতাংশ ব্যবহারকারী কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন। অধিকাংশই মাদক ছাড়ার চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও সামাজিক সহায়তার অভাবে সফল হতে পারেননি। ব্যবহারকারীরা চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও কর্মসংস্থান সহায়তাকে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রিন্ট করুন