ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের জল্লী-কান্দি গ্রামের অসহায় মা আমেনা খাতুনের জীবন যেন এক দীর্ঘ কান্নার গল্প। মানসিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলে আল-আমিনের নেই কোনো রুটি-রোজগার। মাঝে মাঝে দিনমজুরের কাজ করলেও প্রত্যন্ত গ্রামে কাজের সুযোগ থাকে না। মানসিক সমস্যার কারণে কেউ তাকে কাজে নিতে চান না। কখনো হঠাৎ করে হারিয়ে যান, আবার খুঁজে পাওয়া যায় না।
আমেনা খাতুনের স্বামী আহসানউল্লাহ বয়সের ভারে নতজানু। সংসার চলে আমেনার ভিক্ষার চালে। যৌবনে ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলেন, কিন্তু দিন দিন মানসিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। জানা যায়, অভাবের কারণে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন তার ছেলের স্ত্রী।
সরজমিনে দেখা যায়, ছোট্ট একটি পাতিলে খোলা জায়গায় ভাতের সাথে শিম সিদ্ধ করছেন আমেনা খাতুন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তাদের খাবার জোটেনি। ভিক্ষা করতে গিয়ে পথের ধারের শিম গাছ থেকে শিম সংগ্রহ করেছেন তিনি। যে বাড়িতে থাকেন সেটি জায়গার মালিকের দয়া। সহায়-সম্বল বলতে নেই কিছুই, আছে শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
আমেনা খাতুন বলেন, “আমি গরীব মানুষ। পোলাডা পাগল। গ্রাম গ্রাম ভিক্ষা কইরা যে চাল পাই, হিডা দিয়া খাই। শইল শক্তি নাই, অহন অত ঘুরতাম ফারি না। মাছ-মাংস খাইতাম ফারি না, লবন দিয়া ভাত খাই বেশির ভাগ।”
শ্যামগ্রাম টু বাঞ্ছারামপুর রোডের জল্লী-জীবনগঞ্জ লোহার ব্রীজের উত্তর পাশে খালের ধার ধরে কাদা মাটির পথের শেষে একটি ছোট্ট ভাঙ্গা টিনের ঘর। রান্না হয় খোলা জায়গায়, চারপাশে গাছগাছালি। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি চাইলে সরাসরি বা মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করতে পারেন। স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সহজেই পাওয়া যাবে তাদের ঠিকানা।

সঞ্জয় শীল :