কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জুলাই যোদ্ধারা তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এক সময় যারা মজলুম ছিলেন তারা যেন জালেম হওয়ার চেষ্টা না করেন এবং মানুষের অধিকার হরণের পথে না যান।
জামায়াত আমীর বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, নীতির রাজনীতি হবে দেশের পথনির্দেশক। তিনি ঘোষণা দেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে এবং এটি বাস্তবায়ন করাকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু ও ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল। তাদের অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে, নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেতাদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছে তাদের নেতাকর্মীরা। শহীদদের রক্তে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এত নির্যাতনের পরও জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতি করবে না। অপরাধ করলে আইন তার বিচার করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কোন নাগরিক যেন মামলায় হয়রানির শিকার না হয়। শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকারও তিনি ব্যক্ত করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্য উদয় হবে। প্রশাসনকে তিনি আহ্বান জানান জনগণের পক্ষে থাকার জন্য। মিডিয়াকে তিনি জাতির বিবেক আখ্যা দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াত সরকার গঠন করলে সরকারি খরচে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
সভা শেষে কুমিল্লার ১১টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ জোটের নেতৃবৃন্দ।

নেকবর হোসেন :