প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিবি পুলিশের অভিযানে ট্রাকচালক আলাউদ্দিন হত্যা মামলার মূল হোতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত চিনি উদ্ধার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ট্রাকচালক আলাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূল হোতা নুর হোসেন মুন্নাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ চিনি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আলাউদ্দিন (৩১) ভোলা জেলার লালমোহন থানার রায়চাঁদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আকিজ কোম্পানির ২৭ মেট্রিক টন সাদা চিনি বোঝাই একটি কন্টেইনার ট্রাক (রেজি: চট্টমেট্রো-শ-১১-০৬৫৫) চালিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে টঙ্গী, গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে তিনি নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছালে ট্রাকের মালিক নাজমুল হোসেনের সন্দেহ হয়।
গত ১৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে ট্রাকটির অবস্থান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার জগন্নাথ দীঘির পাড় এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মনোহরগঞ্জ থানার বিপুলাসার বড় কাচি এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে ট্রাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।
ট্রাকটি খুলে ভেতরে ঢুকে চালকের সিটের পেছনে কম্বল দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ট্রাকচালককে হত্যা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ মেট্রিক টন চিনি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
এ ঘটনায় ট্রাকের মালিক নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার, কুমিল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবির একটি চৌকস দল ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নুর হোসেন মুন্নাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত চিনি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নুর হোসেন মুন্না (২৮), মিন্টু বড়ুয়া (৩৬), শাহাদাত হোসেন রকি (২৬), আমিনুল ইসলাম (৫৫) ও বাবলু (৩৯)। তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন রকির বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি এবং বাবলুর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৯৯ বস্তা চিনি, ৮৪টি খালি চিনির বস্তা এবং প্যাকেজিং কাজে ব্যবহৃত দুটি ইলেকট্রিক মেশিন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রিন্ট করুন