বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন নির্বাচনি পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানারে নামের আগে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ব্যবহার করায় এলাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট কাজী এরফানুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি বগুড়া-১ এর চেয়ারম্যান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মোছা. শামীমা খাতুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় তাকে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহাবুদ্দিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণ নেই। এরপরও তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে আসছেন। ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার করায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সারিয়াকান্দি উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহসিনুর রহমান এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান আলী গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তারা অভিযোগ করেন, মিথ্যা মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে শাহাবুদ্দিন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের এজেন্টও একই অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক কমিটি নোটিশ জারি করে শাহাবুদ্দিনকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছরে তার নামে শতাধিক মামলা দিয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলেও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

অনলাইন ডেস্ক :