কুমিল্লার বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া আসনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের বরাত পাওয়া গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মিছিল ও স্লোগান স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ দুইবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে স্লোগান দেন।
২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া আসনে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোট, আর জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৬১৬ ভোট। ফলে বিএনপি মাত্র ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাত করেছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “বিএনপি আসলে আওয়ামী লীগকে বুকে টেনেছে, আর সেই আওয়ামী লীগই জামায়াতকে ভোট দিয়েছে।” নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের প্রচারণা দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তারা যেন এক প্রকার ক্ষমতায় চলে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সক্রিয়তা এবং জামায়াতের ভোট বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ দুই দলের সাথেই গোপন সমঝোতায় গিয়েছিলো। এর ফলে বিএনপি সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও ভোটে অল্প ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “বিএনপির ভরাডুবি পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভোটের সমীকরণ তাদের সফলতার পথে নিয়ে গেছে।”
এখন এলাকায় প্রশ্ন উঠছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কীভাবে আবার সক্রিয় হলো, এবং জামায়াতের বিপুল ভোটের পেছনে আসলেই কোনো রাজনৈতিক আঁতাত ছিলো কি না। এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :